Inline image3630543c-8f8f-9f75-8c58-49f8f268dee5@yahoo.com>”>

  • إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ
  • قَرِيبٍ فَأُولَٰئِكَ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ۗ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا

      Allah accept the repentance of those who do evil in ignorance and repent soon afterwards; to them will Allah turn in mercy: For Allah is full of knowledge and wisdom.

[ক]
প্রথম কথা হচ্ছে, ‘পরকাল বা আখিরাতে বিশ্বাস’ ব্যাপারটা আমাদের জন্য পুরোটাই বিশ্বাসকেন্দ্রিক একটি ব্যাপার। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া’তাআলা কুরআনুল কারীমে আখিরাতে বিশ্বাস করতে বলেছেন এবং আমাদের নবি মুহাম্মাদ সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটা আমাদের বিশ্বাস করতে বলে গেছেন। সুতরাং, কোনপ্রকার ‘যদি’ ‘কিন্তু’ ‘তবে’ ‘অথবা’ ছাড়াই আমরা আখিরাতে বিশ্বাস করি এবং করবো। আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। এটার জন্য আমরা কখনোই কোন বিজ্ঞান, কোন যুক্তি কিংবা কোন দর্শনের দ্বারস্থ হবোনা। ব্যস!
[খ]
তবে, কেউ যদি ‘আমি যা দেখিনা তা বিশ্বাস করিনা’- টাইপের যুক্তি দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে যে সে আসলে তার দাবিতে সৎ নয় অথবা দুনিয়ার বিজ্ঞান, দর্শন কিংবা যুক্তি কোনোটাই সে আসলে বুঝেনা। ‘যা দেখিনা তা বিশ্বাস করিনা’- এই যুক্তিটা আসলে একটা ভঙ্গুর যুক্তি। মানুষের বেশকিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যেমন, ২০-২০,০০০ কম্পাঙ্কের শব্দই কেবল আমরা শুনতে পাই। ২০ এর কম আর ২০,০০০ এর বেশি কম্পাঙ্কের শব্দ হলেই সেই শব্দ আমরা আর শুনতে পাইনা। ২০,০০০ কম্পাঙ্কের বেশি শব্দ যেহেতু আমরা শুনতে পাইনা, তাহলে কেউ যদি বলে ’২০,০০০ কম্পাঙ্কের শব্দ যেহেতু আমি শুনতে পাইনা, তাই আমি এই মাত্রার শব্দে আসলে বিশ্বাস করিনা’- এই দাবিটা কতোটুকু যৌক্তিক?
আবার, শ্রবণশক্তির ক্ষেত্রেও মানুষের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সাধারণত, ৪০০-৭০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘের আলোর বাইরের কোন আলো মানুষ দেখতে পায়না। এখন কেউ যদি বলে, ‘৮০০ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের কোন আলো যেহেতু আমি দেখতে পাইনা, তাই আমি এতে বিশ্বাসও করিনা’- এই দাবিটাও একটা বাতুলতা বৈকি!
আমরা একটা ত্রি-মাত্রিক জগতে বাস করি। মানে হলো, আমাদের মস্তিষ্ক কেবল তিনটা মাত্রায় সংবেদনশীল। এই তিন মাত্রা হলো দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা। এই তিন মাত্রার বাইরের কোন মাত্রাকে আমাদের মস্তিষ্ক অনুভব করতে পারেনা। তার মানে কিন্তু এই নয় যে এই তিন মাত্রার বাইরে আর কোন মাত্রা নেই। আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটিতে ‘সময়’কে চতুর্থ মাত্রা হিশেবে ধরা হয়। এই মাত্রাটির ব্যবহার করা গেলে টাইম ট্রাভেল করা সহজ হয়ে যেতো। অর্থাৎ, মানুষ চাইলেই অতীতে চলে যেতে পারতো, কিংবা বর্তমানে বসে ভবিষ্যৎ ভ্রমণ করে আসতো পারতো। কিন্তু, মানুষ এই মাত্রাটিকে বুঝতে পারবে না। এই দাবি স্বয়ং আইনস্টাইনের। শুধু কি তাই? ‘স্থান’-কেও অনেকে চতুর্থ মাত্রা হিশেবে ধরে থাকে। মাত্রা হিশেবে ‘স্থান’-কে ব্যবহার করা গেলে হাইপার-স্পেস ট্রাভেল করা খুব সহজ হয়ে যেতো। মানে, চোখের পলকেই মানুষ মহাবিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে চলে যেতে পারতো অনায়েশে। কিন্তু, এই মাত্রাগুলো মানব মস্তিষ্কের ক্ষমতার বাইরে। মানব মস্তিষ্ক যেহেতু এই মাত্রাগুলোকে বুঝতে পারেনা, তার মানে কি এই যে এই মাত্রাগুলো আদৌ নেই?
শুধু তাই নয়, পদার্থবিদ্যার ষ্ট্রিং-থিওরি-তে ‘দশ মাত্রা’ ধরে আগানো হয়। কিন্তু, এই দশ মাত্রা কখনোই অনুভব করা যায়না। তার মানে কিন্তু স্ট্রিং-থিওরিতে ‘দশ মাত্রা’-কে অস্বীকার করা হয়না। বিজ্ঞানীদের মতে, এই মাত্রাগুলোর বাইরেও মহাবিশ্বে আরো অনেক মাত্রা রয়েছে যা আমাদের জানার বা বোঝার বাইরে। এই সকল মাত্রাগুলো কোনো না কোনোভাবে মহাবিশ্বের কোন না কোনোকিছুর সাথে সম্পর্কিত।
‘পরকাল বা আখিরাত’ হলো একটি ভিন্ন জগত। ভিন্ন মাত্রা। ভিন্ন ডাইমেনশান। সেই ভিন্ন জগত তথা ডাইমেনশানকে আমরা বুঝতে পারছিনা বা পারিনা, তার মানে কিন্তু এটা নয় যে- এটার অস্তিত্ব নেই। বরং, আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার জন্যে সেটাকে বুঝতে অক্ষম। দুনিয়ায় বসে সেটা দেখার ক্ষমতা আমাদেরকে দেওয়া হয়নি। আমরা সেই মাত্রাকে, সেই জগতকে, সেই ডাইমেনশানকে দেখতে পারিনা। এই না দেখতে পাওয়ার ফলে সেই মাত্রা, সেই জগত ‘নাই’ হয়ে যায়না।
ব্যাপারটাকে আরেকভাবে দেখা যাক। অনেকে বলে, আখিরাত বা পরকাল বলে যদি কিছু থাকবেই, তাহলে আমরা সেটাকে এখানে বসে বুঝতে পারিনা কেনো? এটা খুবই অযৌক্তিক একটা প্রশ্ন। আচ্ছা, আপনি যখন দীর্ঘ নয়মাস ধরে আপনার মায়ের পেটে ছিলেন, তখন কি আপনি একটিবারের জন্যও বুঝতে পেরেছিলেন যে আপনি শীঘ্রই এমন একটি জগতে পা রাখতে যাচ্ছেন যেখানে সূর্যের আলো আছে, চাঁদের জোসনা আছে, পাহাড়ের ঝর্ণা আছে, নদীর কলতান আছে, কোকিলের গান আছে, রিমঝিম বৃষ্টি আছে? আপনি কি কখনো একটিবারের জন্যও কল্পনা করতে পেরেছিলেন যে আপনি এমন এক দুনিয়ায় যাচ্ছেন যেখানে ফেইসবুক আছে, টুইটার-ইউটিউব আছে। যেখানে শেক্সপিয়ার, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, সক্রেটিস জন্ম নেয়? আপনি কি ভাবতে পেরেছিলেন যে সেখানে আপনার স্ত্রী হবে, সন্তান হবে, সংসার হবে? এর কোনোটাই কি আপনি আপনার মায়ের পেটে বসে চিন্তা করতে পেরেছিলেন? পারেননি। কিন্তু দেখুন, মায়ের পেট থেকে বের হয়ে আপনি কিন্তু এর সবকিছুই পেয়েছেন। দেখেছেন। যা আপনি ওখানে বসে কখনো কল্পনাও করতে পারেননি, তার সবকিছুই আপনি এখানে এসে পেয়ে গেছেন। তাহলে, আপনি কিভাবে ভাবতে পারছেন যে দুনিয়ায় বসে আখিরাতের সবকিছুই আপনি জেনে যাবেন? কিভাবে আপনি কল্পনা করেন যে ওখানকার সবকিছু আপনি এখানে বসে দেখে ফেলবেন? মায়ের পেট থেকে দুনিয়ায় আসার পর কি আপনার জন্য সূর্যের আলো, চাঁদের জোসনা, পাহাড়ের ঝর্ণা, বৃষ্টির জল আর কোকিলের গান মিথ্যে হয়ে গেছে? যায়নি। তাহলে কিভাবে ধরে নিচ্ছেন যে মৃত্যুর পর আপনার জন্য হাশরের মাঠ, মিযানের পাল্লা, ফুলসিরাতের সাঁকো, জান্নাতের অনিন্দ্য সুন্দর বাগান আর জাহান্নামের আগুনে ভর্তি কূপ মিথ্যে হয়ে যাবে?
এর বাইরে একদল লোক আছে যারা বলে আমরা বিজ্ঞান ছাড়া কিছুই বুঝিনা। বিজ্ঞান যা আবিষ্কার করেনি তাতে আমাদের মোটেও বিশ্বাস নেই। এই শ্রেণীর লোকগুলোও উপরের লোকগুলোর মতো। এরাও না বিজ্ঞান বুঝেছে, না ধর্ম বুঝেছে। আদতে, বিজ্ঞান কখনোই সবকিছু আবিষ্কার করতে পারবে না। আরো সহজভাবে, বিজ্ঞান কখনোই প্রকৃতির সব রহস্য আমাদের সামনে খোলাসা করতে পারবেনা। নাহ, এটা বিজ্ঞানের অক্ষমতা নয়। বরং, এটাই বিজ্ঞানের ধর্ম। প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ জাফর ইকবাল তার ‘কোয়ান্টাম মেকানিক্স’ বইয়ের শুরুতেই এভাবে লিখেছেন-
‘কাজেই যারা বিজ্ঞান চর্চা করে তারা ধরেই নিয়েছে আমরা যখন বিজ্ঞান দিয়ে পুরো প্রকৃতিটাকে বুঝে ফেলবো, তখন আমরা সবসময় সবকিছু সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবো। যদি কখনো দেখি কোনো একটা কিছু ব্যাখ্যা করতে পারছিনা, তখন বুঝতে হবে এর পেছনের বিজ্ঞানটা তখনো জানা হয়নি। যখন জানা হবে তখন সেটা চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবো। এককথায়, বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা বা ভবিষ্যদ্বাণী সবসময়েই নিঁখুত এবং সুনিশ্চিত। কোয়ান্টাম মেকানিক্স বিজ্ঞানের এই ধারণাটাকে পুরোপুরি পাল্টে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা সবিস্ময়ে আবিষ্কার করেছেন যে, প্রকৃতি আসলে কখনোই সবকিছু জানতে দেবেনা। সে তার ভিতরের কিছু কিছু জিনিস মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখে। মানুষ কখনোই সেটা জানতে পারবেনা। সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার হচ্ছে, এটা কিন্তু বিজ্ঞানের অক্ষমতা বা অসম্পূর্ণতা নয়। এটাই হচ্ছে বিজ্ঞান। বিজ্ঞানীরা একটা পর্যায়ে গিয়ে কখনোই আর জোর গলায় বলবেন না ‘হবে’, তারা মাথা নেড়ে বলবেন,- ‘হতে পারে’।
কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জাফর ইকবাল বলেছেন যে বিজ্ঞান কখনোই সবকিছু আমাদের জানাতে পারবেনা। প্রকৃতির সব রহস্য বিজ্ঞান আমাদের বলে দিতে পারবেনা। আমাদের ইচ্ছেমতো বিজ্ঞান চলবেনা, বরং বিজ্ঞান চলবে তার নিজস্ব গতিতে। বিজ্ঞান যেহেতু প্রকৃতির সব রহস্য খোলাসাই করতে পারবেনা, তখন আমরা কিভাবে ধরে নিচ্ছি যে বিজ্ঞান আমাদের জানাবে আখিরাত আছে কি নেই। স্রষ্টা আছে কি নেই। জান্নাত-জাহান্নাম আছে কি নেই? সুতরাং, যারা বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে সবকিছুকে ‘জেনে ফেলার’ ভান করেন, তারাও একপ্রকার ভন্ড।
[গ]
কোন এক টিভি মডেল নাকি বলেছে যে, সে যেহেতু পরকালকে চোখে দেখেনা, তাই সে পরকালে বিশ্বাস করেনা। ফাইন। এই আলোচনা উপরে করা হয়েছে। এবার তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, যারা সেই মডেলের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধারের কাজে নেমেছেন। সেই মডেলের জাত-পাত উদ্ধারের দৃশ্য দেখতে দেখতে আমার একটি গল্প মনে পড়ে গেলো। গল্পটা এরকম-
একবার রাজ্যের সভা চলাকালীন সময়ে উজির এবং নাজিরকে বলা হলো একেবারে ভিন্নভাবে, ভিন্ন উপায়ে রাজার সামনে উপস্থিত হতে। অর্থাৎ, দুইজনের কারোর মধ্যে কোন মিল থাকতে পারবেনা। এমন প্রস্তাবে উজির এবং নাজির দুইজনেই একটু চিন্তিত হলো। ভাবলো, কিভাবে একে-অন্যের চেয়ে ভিন্ন হওয়া যায়। শেষমেশ উজিরের মাথায় অসাধারণ একটা বুদ্ধি খেলে গেলো। সে করলো কি, তার কাপড়চোপড় খুলে রেখে একেবারে উলঙ্গ অবস্থায় রাজ দরবারে এসে উপস্থিত। রাজা সহ সবাইকে উদ্দেশ্য করে সে বলতে লাগলো, ‘এই যে দেখুন! আমি আজ একেবারে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থিত হয়েছি, হুম’। রাজ দরবারের কেউ তো লজ্জায় তার দিকে তাকাতেও পারছেনা। এরপর, নাজির উপস্থিত হলো। তার গায়ে কোন নতুন সাজ নেই। প্রতিদিনকার পরিহিত পোশাক গায়ে দিয়েই সে উপস্থিত হয়েছে। হাসি হাসি মুখ নিয়ে সে রাজ দরবারে ঢুকেই মহারাজকে উদ্দেশ্য করে বললো, ‘উপস্থিত জাহাঁপন’’। সবাই তার এই উপস্থিত বুদ্ধি দেখে অবাক হলো এবং তালি দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানালো। নতুন বেশ ধারণের জন্য কিন্তু তাকে কিছুই করতে হয়নি। সে যা ছিলো, তা-ই সই। অন্যদিকে, ওভারস্মার্ট হতে গিয়ে বেচারা উজির নিজের মান-সম্মান খুয়ালো।
অনলাইনের কিছু ভাইদের অবস্থাও হয়েছে এরকম। ওই মডেল কেনো তাদের ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো- এর জন্য উজিরের মতো একেবারে উলঙ্গ হয়ে উপস্থিত হয়ে গেছে তারা। মডেলটার জাত-পাত উদ্ধার না করলে তারা যেন কোনোভাবেই শান্তি পাচ্ছে না। এতে করে যে উজিরের মতো নিজের ইজ্জত এবং নিজের ধর্মটাকেই ছোট করে ফেলছে, সেটা এ সমস্ত ভাইদের কে বোঝাবে?
-আরিফ আজাদ

Share This Story!

You may also like